বন্ধু / পরিবারের মধ্যে টাকা ধার চুক্তি
বাংলাদেশে পরিবার ও বন্ধুত্বে সবচেয়ে বেশি তীব্র বিবাদের একটি কারণ হলো অনানুষ্ঠানিকভাবে ধার দেওয়া টাকা কখনো ফেরত না পাওয়া। বন্ধু বা পরিবারের মধ্যে লিখিত ঋণ চুক্তি অবিশ্বাসের চিহ্ন নয় — এটি সেই সৌজন্য যা সম্পর্ককে সুরক্ষিত রাখে: এটি দুই পক্ষকে লিখিতভাবে ও রেকর্ডে ঠিক কী ধার দেওয়া হচ্ছে এবং কবে ফেরত আসবে সে বিষয়ে একমত হতে বাধ্য করে — এটাই ছয় মাস পরে "এটা ঋণ ছিল না উপহার" এই ক্লাসিক বিরোধ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। কাঠামো যেকোনো ব্যক্তিগত ঋণ চুক্তির মতোই — মূল টাকা, সুদ প্রযোজ্য কিনা (পারিবারিক ঋণ প্রায়ই সুদমুক্ত), পরিশোধের সূচি, এবং খেলাপির পরিণতি — কিন্তু ভাষা কম আনুষ্ঠানিক হতে পারে এবং একজন পারস্পরিক শ্রদ্ধেয় সাক্ষী সই করালে বুদ্ধিমানের কাজ।
স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প স্ট্যান্ডার্ড, সাথে দুইজন সাক্ষী। পারিবারিক ঋণও চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর অধীনে পূর্ণরূপে কার্যকরযোগ্য — পক্ষদের অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক দলিলের আইনি প্রভাব দুর্বল করে না। ঋণ সুদমুক্ত হলে স্পষ্টভাবে বলুন; সুদ থাকলে হার লিখুন।
এই চুক্তিতে সাধারণত যা যা তথ্য থাকে
- ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার পরিচয় + তাদের সম্পর্ক (ঐচ্ছিক)
- মূল ঋণের অংক অংক ও কথায়
- সুদ — সাধারণত পরিবারের জন্য ০%; উভয় ক্ষেত্রেই হার স্পষ্টভাবে বলুন
- পরিশোধের সূচি (এক এককালীন তারিখ অথবা স্পষ্ট কিস্তির পরিকল্পনা)
- পরিশোধের মাধ্যম (ব্যাংক / MFS / ক্যাশ)
- বিলম্ব-পরিশোধের পরিণতি, যদি থাকে
- সাক্ষীর বিবরণ — প্রায়ই পারস্পরিক শ্রদ্ধেয় পরিবারের সদস্য বা বন্ধু
- ঋণদাতা, ঋণগ্রহীতা ও সাক্ষীর স্বাক্ষর
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
- পরিবারের সদস্যদের মধ্যে লিখিত ঋণ চুক্তি কি আইনগতভাবে কার্যকর?
- হ্যাঁ, পূর্ণরূপে। চুক্তি আইন, ১৮৭২ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঋণ চুক্তিকে ঠিক অন্য যেকোনো ঋণ চুক্তির মতোই বিবেচনা করে — পক্ষদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক কার্যকরযোগ্যতাকে দুর্বল করে না। ঋণগ্রহীতা পরিশোধ না করলে ঋণদাতা স্বাক্ষরিত দলিলের ভিত্তিতে টাকা আদায়ের দেওয়ানি মামলা করতে পারেন। বাংলাদেশে টাকা-আদায়ের মামলার তামাদি সময় সীমিত (ঋণ পরিশোধযোগ্য হওয়ার তারিখ থেকে একটি নির্দিষ্ট বছরের মধ্যে), তাই দেরি করার আগে বর্তমান তামাদি সময়সীমা আইনজীবীর সাথে যাচাই করে নিন — বেশি দেরি করলে আদায় সম্পূর্ণ বাধাপ্রাপ্ত হবে।
- ভাইয়ের / বন্ধুর টাকা-ধার ব্যর্থ হলে কি আদালতে নেওয়া উচিত?
- এটা আপনার নিজের বিচার, কিন্তু লিখিত চুক্তি আপনাকে উভয় ক্ষেত্রেই বিকল্প দেয়। বেশিরভাগ পারিবারিক-ঋণ বিবাদ প্রথমে মীমাংসার চেষ্টা, তারপর আনুষ্ঠানিক আইনি নোটিশ এবং কেবল তখনই মামলা দায়ের করে সমাধান হয়। হাতে স্বাক্ষরিত চুক্তি থাকলে প্রতিটি ধাপ শক্তিশালী হয় — চুক্তি সংযুক্ত একটি ভালো আইনি নোটিশই প্রায়ই আদালত-প্রক্রিয়া ছাড়াই পরিশোধ আনতে যথেষ্ট।