ব্যক্তিগত ঋণ চুক্তি
ব্যক্তিগত ঋণ চুক্তি (পার্সোনাল লোন এগ্রিমেন্ট) হলো ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মধ্যে বেসরকারি ঋণ রেকর্ড করা লিখিত চুক্তি — ব্যক্তিদের মধ্যে, বা একজন ব্যক্তি ও একটি ছোট ব্যবসার মধ্যে। ব্যাংক ঋণের বিপরীতে বেসরকারি ব্যক্তিগত ঋণ সাধারণত আনুষ্ঠানিক ক্রেডিট মূল্যায়নের ভিত্তিতে হয় না, তাই ঋণগ্রহীতা যদি পরিশোধ না করেন — লিখিত চুক্তিই সম্পূর্ণ সাক্ষ্যমূল্য বহন করে। এর কাজ হলো একটি অস্পষ্ট মৌখিক বোঝাপড়াকে এমন একটি দলিলে রূপান্তর করা যা দেওয়ানি আদালত কার্যকর করবে: সঠিক মূল টাকা, সুদ প্রযোজ্য কিনা ও কত হারে, পরিশোধের সূচি (এককালীন না কিস্তিতে), কোনো জামানত এবং খেলাপির পরিণতি। আইসিটি আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬ ও ৭ অনুযায়ী ওটিপি-সত্যায়িত ChuktiQ-এর ডিজিটাল ঋণ চুক্তি স্ট্যাম্পে-করা কাগজের চুক্তির সমান সাক্ষ্যমূল্য রাখে।
স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশনব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণ ঋণ চুক্তি সাধারণত ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে দুইজন সাক্ষীর সাথে চলে। স্থাবর সম্পত্তির জামানত থাকলে রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর অধীনে আলাদা রেজিস্ট্রিকৃত বন্ধক দলিল লাগবে। চুক্তিতে হার লেখা থাকলে এবং অস্বাভাবিক বেশি না হলে সুদ বৈধ — বাংলাদেশের আদালত অস্বাভাবিক বেশি হার পুনর্বিবেচনা ও কমাতে পারেন; নির্দিষ্ট সুদহার লেখার আগে বর্তমান আইনি সিলিং ও কার্যকর প্রক্রিয়া আইনজীবীর সাথে যাচাই করে নিন।
এই চুক্তিতে সাধারণত যা যা তথ্য থাকে
- ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার পূর্ণ পরিচয় — নাম, ঠিকানা, এনআইডি, ফোন
- মূল ঋণের অংক অংক ও কথায়
- ঋণের উদ্দেশ্য (ঐচ্ছিক তবে সুপারিশকৃত)
- সুদের হার (বছরে % সরল বা চক্রবৃদ্ধি) — সুদমুক্ত হলে শূন্য
- পরিশোধের সূচি — এককালীন তারিখ অথবা কিস্তির টেবিল (তারিখ ও অংক)
- পরিশোধের মাধ্যম (ব্যাংক ট্রান্সফার, বিকাশ / নগদ, ক্যাশ)
- বিলম্ব-পরিশোধের জরিমানা, যদি থাকে
- জামানত / জামিনদারের বিবরণ, যদি থাকে
- খেলাপির পরিণতি (বাকি কিস্তির ত্বরান্বিত পরিশোধ, আইনি ব্যবস্থা)
- ঋণদাতা, ঋণগ্রহীতা এবং কমপক্ষে একজন সাক্ষীর স্বাক্ষর
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
- বাংলাদেশে লিখিত ঋণ চুক্তির ভিত্তিতে কি ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়?
- হ্যাঁ। স্বাক্ষরিত ঋণ চুক্তি চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর অধীনে বৈধ সাক্ষ্য এবং টাকা আদায়ের দেওয়ানি মামলার মূল সাক্ষ্য গঠন করে। ChuktiQ-তে তৈরি ও ওটিপি-স্বাক্ষরিত ডিজিটাল চুক্তির আইসিটি আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬ ও ৭ অনুযায়ী একই মর্যাদা। তামাদির তারিখ মনে রাখুন: বাংলাদেশে টাকা-আদায়ের মামলার তামাদি সময় সীমিত (ঋণ পরিশোধযোগ্য হওয়ার তারিখ থেকে একটি নির্দিষ্ট বছরের মধ্যে) — দেরি করবেন না; মামলা দায়েরের আগে বর্তমান তামাদি সময়সীমা আইনজীবীর সাথে যাচাই করে নিন যাতে সময়সীমা পার না হয়ে যায়।
- বেসরকারি ঋণে সুদ নেওয়া কি বৈধ?
- হ্যাঁ, যদি হার (ক) লেনদেনের সময় লিখিতভাবে সম্মত হয়, এবং (খ) অস্বাভাবিক বেশি না হয়। বাংলাদেশের আদালতের প্রচলিত ব্যাংক সুদহারের তুলনায় "অতিরিক্ত" সুদের হার পুনর্বিবেচনা ও কমানোর ক্ষমতা আছে, এবং নির্দিষ্ট আইনি সীমা সময়ে সময়ে সংশোধিত হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় ভরসা না করে হারটি প্রচলিত ব্যাংক সুদহারের কাছাকাছি রাখুন, এবং ঋণ দলিলে নির্দিষ্ট সংখ্যা লেখার আগে বর্তমান সিলিং আইনজীবীর সাথে যাচাই করে নিন।