ব্যবসা ও কোম্পানি
ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, জয়েন্ট ভেঞ্চার ও আন্তঃ-প্রতিষ্ঠান চুক্তি — পার্টনারশিপ ডিড, এমওইউ, এনডিএ, ডিস্ট্রিবিউটর ও সরবরাহকারী চুক্তি, শেয়ার-হস্তান্তর দলিল ও ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তি — বাংলাদেশের এসএমই অর্থনীতির মেরুদণ্ড। ভাড়া বা ঋণের মতো নয়, একটি ব্যবসায়িক চুক্তি সাধারণত পক্ষদের মধ্যে টাকা, সিদ্ধান্ত, কাজ ও সুনাম প্রতিদিন ভাগ-বাঁটোয়ারার একটা চলমান সম্পর্ক তৈরি করে; চুক্তির কাজ হলো স্পষ্টভাবে বলা — কে কী আনছে, লাভ কীভাবে ভাগ হবে, চেক কে সই করবে, নতুন পার্টনার কীভাবে ঢুকবে, মতবিরোধ কীভাবে মেটানো হবে এবং শেষমেষ ব্যবসা গোটানোর সময় কী হবে। বাজে বা অনুপস্থিত পার্টনারশিপ ডিডই বাংলাদেশে ছোট ব্যবসা ভাঙার সবচেয়ে বড় কারণ।
স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশনস্ট্যাম্প ডিউটি ও সাক্ষী: পার্টনারশিপ আইন, ১৯৩২-এর অধীনে নিবন্ধিত ফার্মের পার্টনারশিপ ডিড সাধারণত ২,০০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে হয়, দুইজন সাক্ষী থাকে, এবং পূর্ণ সুরক্ষার জন্য যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের (RJSC) কাছে নিবন্ধন করাতে হয়। এমওইউ ও এনডিএ সাধারণত ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চলে। নোটারিকরণ সাক্ষ্যমূল্য বাড়ায় কিন্তু কেবল নির্দিষ্ট আইনে প্রয়োজন হলেই বাধ্যতামূলক।
এই বিভাগে চুক্তির ধরনসমূহ
- অংশীদারি চুক্তি (পার্টনারশিপ ডিড)
- যৌথ উদ্যোগ চুক্তি
- শেয়ার হস্তান্তর চুক্তি
- ব্যবসা ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি
- ব্যবসা হস্তান্তর চুক্তি
- সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)
- সরবরাহকারী / ভেন্ডর চুক্তি
- পরিবেশক / ডিস্ট্রিবিউটর চুক্তি
- ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তি
- বিনিয়োগ চুক্তি
- অ-প্রকাশ চুক্তি (এনডিএ)
- অ-প্রতিযোগিতা চুক্তি
- সমবায় সমিতি চুক্তি
- মুনাফা বণ্টন চুক্তি
- এজেন্সি চুক্তি
- ডিলারশিপ চুক্তি
- অংশীদারিত্ব বিলুপ্তি চুক্তি
- পাইকারি ক্রয় চুক্তি
- কমিশন এজেন্ট চুক্তি
- উদ্দেশ্য পত্র (এলওআই)
- ব্যবসায়িক ইনকিউবেশন চুক্তি
- স্টার্টআপ ইক্যুইটি চুক্তি
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
- বৈধ পার্টনারশিপ ডিড থাকার জন্য কি আমাদের পার্টনারশিপ ফার্ম নিবন্ধন করাতেই হবে?
- না — অনিবন্ধিত অংশীদারিত্বও পার্টনারশিপ আইন, ১৯৩২-এর অধীনে বৈধ অংশীদারিত্ব হতে পারে। তবে ওই আইন অনিবন্ধিত ফার্মের কাছ থেকে তৃতীয় পক্ষ বা অন্য পার্টনারের বিরুদ্ধে চুক্তি-অধিকার কার্যকর করতে মামলা করার সক্ষমতা যথেষ্ট সীমিত করে দেয় — যতক্ষণ না ফার্ম নিবন্ধিত হয়। ব্যবহারিক অর্থে যেকোনো পার্টনারশিপ, যেটি চুক্তি করবে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলবে বা কখনো মামলা করার প্রয়োজন হবে — তাদের জন্য যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের (RJSC) কাছে নিবন্ধন অপরিহার্য; ডিড তৈরির সময়ই এটা অন্তর্ভুক্ত করে ফেলুন। এই পদ্ধতিগত নিয়মের নির্দিষ্ট উপ-ধারা ও ব্যতিক্রম আছে বলে বিস্তারিত ভাষার জন্য আইনজীবীর সাথে যাচাই করে নিন।
- বাংলাদেশে একটি এনডিএ (তথ্য-গোপনীয়তা চুক্তি) কীভাবে কার্যকর করব?
- এনডিএ চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর অধীনে সাধারণ চুক্তি হিসেবেই কার্যকরযোগ্য, যদি (ক) কোন তথ্যগুলো "গোপনীয়" তা স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত থাকে, (খ) চুক্তি শেষ হওয়ার পর যুক্তিসঙ্গত সময়কাল — সাধারণত ২-৫ বছর — গোপনীয়তার দায়বদ্ধতা বজায় থাকে, (গ) গ্রহীতা পক্ষের অনুমোদিত ব্যবহার সংকীর্ণভাবে লেখা থাকে, এবং (ঘ) ভঙ্গের ক্ষেত্রে প্রতিকার (সাধারণত ক্ষতিপূরণ ও ইনজাংশন উভয়) সম্পর্কে পক্ষরা একমত হন। ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে সাক্ষীসহ এনডিএ সম্পাদন, বা ChuktiQ-এ ওটিপি-সত্যায়িত স্বাক্ষরসহ সম্পাদন — দুটোই কাজ করে।
- কোনো পার্টনার যদি সই-করা পার্টনারশিপ ডিড ভেঙে চলে যান, তখন কী হবে?
- পার্টনারশিপ আইন, ১৯৩২ বাকি পার্টনারদের হয় ফার্ম পুরোপুরি বিলুপ্ত করার অথবা চলে যাওয়া পার্টনারের হিসাব নিষ্পত্তি করে পুনর্গঠিত পার্টনারশিপ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় — মেকানিজম হবে যা ডিডে লেখা আছে। ডিড নীরব থাকলে আইনের ডিফল্ট নিয়ম প্রযোজ্য, যার মানে সাধারণত চলে-যাওয়া পার্টনার তার মূলধনের অংশ ও চলে যাওয়ার তারিখে হিসাব করা গুডউইলের অংশ পাবেন, সেই সাথে চূড়ান্ত পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যালেন্সের ওপর আইন-নির্ধারিত সুদ অথবা ফার্মের পরবর্তী মুনাফার আনুপাতিক অংশ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই ডিফল্টগুলো প্রায় কখনোই বাকি পার্টনাররা চান না, ঠিক এ কারণেই আপনার পার্টনারশিপ ডিডে প্রথম দিন থেকেই সুস্পষ্ট এক্সিট ক্লজ, মূল্যায়ন সূত্র, পেআউট সূচি ও নন-কম্পিট নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত — এবং নির্দিষ্ট আইনগত সংখ্যার উপর নির্ভর করতে চাইলে আইনজীবীর সাথে আইনের বর্তমান পাঠ যাচাই করে নিন।