ঋণ, টাকা ও আর্থিক লেনদেন
বাংলাদেশে বন্ধু, পরিবার, ছোট ব্যবসার অংশীদার বা অনানুষ্ঠানিক ঋণদাতাদের মধ্যে প্রতিদিনই টাকা লেনদেন হয় — অনেক ক্ষেত্রেই কোনো লিখিত রেকর্ড ছাড়াই। এই অনানুষ্ঠানিকতাই মাস কয়েক পরে বড় বিবাদ ডেকে আনে — টাকাটা কি ঋণ ছিল না উপহার, সুদের হার কত ছিল, কবে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল — এই সব প্রশ্নে। একটা ছোট, লিখিত ঋণ / মানি রিসিট চুক্তি — উভয় পক্ষ ও অন্তত একজন সাক্ষীর স্বাক্ষরসহ — মৌখিক বোঝাপড়াকে আদালতে কার্যকরযোগ্য রেকর্ডে পরিণত করে। এতে থাকবে সঠিক পরিমাণ (অংক ও কথায়), সুদ প্রযোজ্য কিনা ও কত হারে, পরিশোধের সূচি (এককালীন না কিস্তিতে), কোনো জামানত আছে কিনা এবং খেলাপির ক্ষেত্রে কী হবে।
স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশনস্ট্যাম্প ডিউটি: ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণ ঋণ / প্রমিসরি নোট সাধারণত ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চলে; স্থাবর সম্পত্তির জামানতসহ বন্ধকী ঋণের জন্য রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত বন্ধক দলিল দরকার। বেসরকারি ঋণের সুদের হারের ওপরও আইনি সীমা রয়েছে — অস্বাভাবিক বেশি হার আদালত কমিয়ে দিতে বা বাতিল করতে পারে। ঋণ দলিলে নির্দিষ্ট সুদের হার লেখার আগে বর্তমান আইনি সিলিং ও কার্যকর প্রক্রিয়া আইনজীবীর সাথে যাচাই করে নিন।
এই বিভাগে চুক্তির ধরনসমূহ
- ব্যক্তিগত ঋণ চুক্তি
- বন্ধু / পরিবারের মধ্যে টাকা ধার চুক্তি
- কিস্তি / ইএমআই পরিশোধ চুক্তি
- জামিনদার / সুরেটি চুক্তি
- বন্ধকী ঋণ চুক্তি
- ঋণ পরিশোধের অঙ্গীকারনামা
- সমিতি / কো-অপারেটিভ সঞ্চয় ঋণ চুক্তি
- বন্ধক চুক্তি
- ঋণ নিষ্পত্তি চুক্তি
- অগ্রিম পরিশোধ চুক্তি
- ব্যাংক ঋণ চুক্তি
- ক্ষুদ্রঋণ / এনজিও ঋণ চুক্তি
- যৌথ খরচ ভাগাভাগি চুক্তি
- টাকা গ্রহণের স্বীকৃতি / মানি রিসিট চুক্তি
- দাদন / কৃষকের অগ্রিম চুক্তি
- সোনা / গহনা বন্ধক চুক্তি
- মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট চুক্তি (বিকাশ / নগদ)
- ঋণ আদায়কারী সংস্থা চুক্তি
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
- লিখিত চুক্তির জোরে কি আদালতের মাধ্যমে অপরিশোধিত ঋণ আদায় করা যায়?
- হ্যাঁ। স্বাক্ষরিত ঋণ চুক্তি বা প্রমিসরি নোট চুক্তি আইন, ১৮৭২ এবং হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর অধীনে বৈধ দলিল এবং টাকা আদায়ের দেওয়ানি মামলার মূল সাক্ষ্য গঠন করে। ChuktiQ-তে তৈরি ও ওটিপি-স্বাক্ষরিত ডিজিটাল চুক্তিও একইভাবে গ্রহণযোগ্য (আইসিটি আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬ ও ৭)। তামাদি আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী ঋণ পরিশোধযোগ্য হওয়ার তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে — বেশি দেরি করবেন না।
- বেসরকারি ঋণে সুদ নেওয়া কি বৈধ?
- সুদের হার লেনদেনের সময় লিখিতভাবে সম্মত থাকলে এবং অস্বাভাবিক বেশি না হলে সুদ নেওয়া বৈধ। বাংলাদেশের আদালতের কাছে প্রচলিত ব্যাংক সুদের হারের তুলনায় "অতিরিক্ত" সুদের হার পুনর্বিবেচনা ও কমানোর ক্ষমতা আছে, এবং নির্দিষ্ট আইনি সীমা সময়ে সময়ে সংশোধিত হয়েছে — নিজের ঋণ দলিলে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা লেখার আগে বর্তমান সিলিং আইনজীবীর সাথে যাচাই করে নিন।
- ঋণগ্রহীতা যদি মানি রিসিটে সই করতেই না চান, তখন কী করব?
- কোনো রিসিট ছাড়া টাকা হাতে দেবেন না। ঋণগ্রহীতা সই করতে না চাইলে সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা হলো ঋণ না দেওয়া। যদি ইতিমধ্যেই টাকা দিয়ে ফেলেন, সমসাময়িক প্রমাণ — এসএমএস বা বিকাশ / নগদ ট্রান্সফার রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ কনফার্মেশন, লেনদেনের সময় উপস্থিত সাক্ষী — কিছুটা কাজ দেবে; কিন্তু স্বাক্ষরিত, তারিখযুক্ত রিসিট / চুক্তি অনেক বেশি শক্তিশালী প্রমাণ, আর ChuktiQ-তে সেটা বানাতে লাগে মাত্র দুই মিনিট।