ভাড়াটে উচ্ছেদ সমঝোতা চুক্তি
ভাড়াটে উচ্ছেদ সমঝোতা চুক্তি — বাংলাদেশে এই চুক্তি সাধারণত এই বিভাগের সাধারণ কাঠামো অনুসরণ করে। বাংলাদেশে একটি পরিবারের জীবনে সবচেয়ে বেশি যে চুক্তিগুলো করতে হয়, তার প্রায় সবই আবাসন-সম্পর্কিত — ফ্ল্যাটে ওঠার সময় ভাড়ার চুক্তি, বাড়ি কেনার সময় ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি, একসাথে থাকার জন্য সাব-লেট বা রুমমেট চুক্তি, কিংবা বাড়ি বানানোর সময় নির্মাণ / সংস্কার চুক্তি। ভালোভাবে লিখিত একটা চুক্তি বাড়িওয়ালা-ভাড়াটে ও ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষকেই সুরক্ষা দেয় — ভাড়া বা মূল্য, মেয়াদ, অগ্রিম, রক্ষণাবেক্ষণের দায়, নোটিশ পিরিয়ড ও বিরোধ নিষ্পত্তির পথ — সবকিছু আগে থেকেই স্পষ্ট ভাষায় লেখা থাকলে পরবর্তীতে ঝামেলা কম হয়।
স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশনএই নির্দিষ্ট চুক্তির স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজনীয়তা দলিলের ধরন ও জড়িত অংকের উপর নির্ভর করে। বেশিরভাগ সাধারণ বেসরকারি চুক্তি ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চলে; নির্দিষ্ট দলিল-ধরনের জন্য (স্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তর, এক বছরের বেশি মেয়াদের ইজারা, পার্টনারশিপ ডিড, দানপত্র ইত্যাদি) উচ্চতর অংক বা রেজিস্ট্রেশন লাগে। সম্পাদনের আগে আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য আইনজীবীর সাথে যাচাই করে নিন।
এই চুক্তিতে সাধারণত যা যা তথ্য থাকে
- উভয় পক্ষের পূর্ণ পরিচয় — নাম, ঠিকানা, এনআইডি, ফোন
- ভাড়াটে উচ্ছেদ সমঝোতা চুক্তি-এর বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
- চুক্তির সময়কাল / কার্যকর তারিখ
- কোনো আর্থিক পরিমাণ (অংক ও কথায়) এবং পরিশোধের সূচি
- উভয় পক্ষের সুস্পষ্ট দায়িত্ব ও অঙ্গীকার
- চুক্তি লঙ্ঘন হলে প্রতিকার ও পরিণতি
- বিরোধ নিষ্পত্তির পথ (আলোচনা / মধ্যস্থতা / আদালত)
- উভয় পক্ষ ও প্রয়োজনে সাক্ষীদের স্বাক্ষর
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
- ChuktiQ-তে করা ডিজিটাল চুক্তি কি বাংলাদেশে আইনগতভাবে বৈধ?
- হ্যাঁ — আইসিটি আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬ ও ৭ ইলেকট্রনিক রেকর্ড ও ওটিপি-সত্যায়িত ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরকে কাগজের চুক্তির সমান আইনগত স্বীকৃতি দেয়। দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম আছে: (ক) যেসব দলিল নির্দিষ্ট আইনে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদন বা রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক — যেমন রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীনে জমি ক্রয়/বিক্রয়-হস্তান্তর দলিল — সেগুলোর জন্য ডিজিটাল রেকর্ডের পাশাপাশি সেই স্ট্যাম্প / রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে; এবং (খ) পারিবারিক আইনের দলিল (বিবাহ, তালাক, উইল) নিজ নিজ আইন অনুযায়ী চলে। আপনার নির্দিষ্ট চুক্তিতে যে-কোনো ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হলে ChuktiQ ওই পেজে স্পষ্ট নোটিশ দেখায়।
- এই ধরনের চুক্তিতে কী স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন প্রযোজ্য?
- তা নির্দিষ্ট দলিলের ধরন ও অনেক দলিলের ক্ষেত্রে জড়িত অংকের উপর নির্ভর করে — স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯ ও রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এই নিয়ম সরবরাহ করে। বেশিরভাগ সাধারণ বেসরকারি চুক্তি (ঋণ নোট, সেবা চুক্তি, এমওইউ, এনডিএ, সাধারণ চুক্তি) ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চলে এবং রেজিস্ট্রেশন লাগে না। কিছু দলিল-ধরনের জন্য উচ্চতর প্রয়োজনীয়তা আছে — পার্টনারশিপ ডিড, স্থাবর সম্পত্তির ক্রয় বা বিক্রয়, এক বছরের বেশি মেয়াদের ইজারা, দানপত্র, সম্পত্তি হস্তান্তরে ব্যবহৃত মোক্তারনামা এবং আরও কিছু। এই নির্দিষ্ট চুক্তি সম্পাদনের আগে সঠিক স্ট্যাম্প অংক ও রেজিস্ট্রেশন আনুষ্ঠানিকতা আইনজীবীর সাথে যাচাই করে নিন — বিশেষত উল্লেখযোগ্য মূল্য বা দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি জড়িত থাকলে।