বাড়ি, ফ্ল্যাট ও আবাসন
বাংলাদেশে একটি পরিবারের জীবনে সবচেয়ে বেশি যে চুক্তিগুলো করতে হয়, তার প্রায় সবই আবাসন-সম্পর্কিত — ফ্ল্যাটে ওঠার সময় ভাড়ার চুক্তি, বাড়ি কেনার সময় ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি, একসাথে থাকার জন্য সাব-লেট বা রুমমেট চুক্তি, কিংবা বাড়ি বানানোর সময় নির্মাণ / সংস্কার চুক্তি। ভালোভাবে লিখিত একটা চুক্তি বাড়িওয়ালা-ভাড়াটে ও ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষকেই সুরক্ষা দেয় — ভাড়া বা মূল্য, মেয়াদ, অগ্রিম, রক্ষণাবেক্ষণের দায়, নোটিশ পিরিয়ড ও বিরোধ নিষ্পত্তির পথ — সবকিছু আগে থেকেই স্পষ্ট ভাষায় লেখা থাকলে পরবর্তীতে ঝামেলা কম হয়।
স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশনস্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন: এক বছর বা তার কম মেয়াদের ভাড়া চুক্তি ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে করা যায়, রেজিস্ট্রি করতে হয় না। এক বছরের বেশি মেয়াদের ভাড়া চুক্তি রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক এবং বার্ষিক ভাড়ার ওপর স্ট্যাম্প ডিউটি প্রযোজ্য। বাড়ি বা ফ্ল্যাটের ক্রয়-বিক্রয় দলিল অবশ্যই রেজিস্ট্রি করাতে হয় এবং বিক্রয়মূল্যের ওপর পূর্ণ স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়।
এই বিভাগে চুক্তির ধরনসমূহ
- বাড়ি ভাড়া চুক্তি
- ফ্ল্যাট / অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া চুক্তি
- ফ্ল্যাট / অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় চুক্তি
- ফ্ল্যাট বুকিং চুক্তি (ডেভেলপারের সাথে)
- সাব-লেট চুক্তি
- মেস / হোস্টেল / পিজি থাকার চুক্তি
- রুমমেট / শেয়ার্ড হাউজিং চুক্তিফ্রি
- বাড়ি ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি
- বাড়ি নির্মাণ চুক্তি
- বাড়ি মেরামত ও সংস্কার চুক্তি
- ডেভেলপার চুক্তি (রাজউক/রিহ্যাব)
- যৌথ ভবন নির্মাণ চুক্তি
- কেয়ারটেকার / দারোয়ান নিয়োগ চুক্তি
- অফিস স্পেস ভাড়া চুক্তি
- বাণিজ্যিক স্থান লিজ চুক্তি
- গুদামঘর ভাড়া চুক্তি
- বাড়ির দালাল / এজেন্ট চুক্তি
- অগ্রিম / সেলামি চুক্তি
- ভাড়াটে উচ্ছেদ সমঝোতা চুক্তি
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
- বাংলাদেশে বাড়ি ভাড়ার চুক্তি কি রেজিস্ট্রি করতে হয়?
- এক বছর বা তার কম মেয়াদের বাড়ি ভাড়ার চুক্তি ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে করা যায় — এটি রেজিস্ট্রি করার বাধ্যবাধকতা নেই। চুক্তির মেয়াদ এক বছরের বেশি হলে রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭(১)(ঘ) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। রেজিস্ট্রি না করলে ওই লিজ ধারা ৪৯ অনুযায়ী সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় (ব্যতিক্রম: সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলায় এবং যেসব সংশ্লিষ্ট লেনদেন রেজিস্ট্রি করা আইনে বাধ্যতামূলক নয়, সেগুলোর সাক্ষ্য হিসেবে দলিলটি ব্যবহারযোগ্য থাকবে)।
- ChuktiQ-তে করা ডিজিটাল ভাড়া চুক্তি কি আইনগতভাবে বৈধ?
- হ্যাঁ। আইসিটি আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬ ও ৭ অনুযায়ী ইলেকট্রনিক রেকর্ড ও ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরকে কাগজের সমান আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে; ফলে উভয় পক্ষের ওটিপি-সত্যায়িত স্বাক্ষরসহ ChuktiQ-তে তৈরি ভাড়া চুক্তি আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য। তবে মেয়াদ এক বছরের বেশি হলে ডিজিটাল রেকর্ডের পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রি করাও লাগবে — সেই পেজে ChuktiQ স্পষ্টভাবে সেই নোটিশ দেখায়।
- বাড়িওয়ালা কত টাকা জামানত / অগ্রিম নিতে পারে?
- বাসা ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী অগ্রিম ভাড়া সর্বোচ্চ এক মাসের ভাড়ার সমান — এর বেশি নিতে হলে বাড়িওয়ালাকে বাধ্যতামূলকভাবে ভাড়া নিয়ন্ত্রকের (Rent Controller) লিখিত অনুমতি নিতে হবে। এর অতিরিক্ত অ-ফেরতযোগ্য "সেলামি" বা "কি মানি"-ও আইনসঙ্গত নয়। যত টাকা অগ্রিম নেওয়া হবে তা ভাড়াটে বের হওয়ার সময় বাস্তব ক্ষতি ও বকেয়া সমন্বয় করে ফেরত দিতে হবে। (বাস্তবে অনেক বাড়িওয়ালা দুই-তিন মাসের অগ্রিম চান — সেটি বাজারের চর্চা, আইনের সীমা নয়, এবং বিরোধ হলে আদালতে সেটি টিকবে না।)